Ikhlachul Muhim Milon

চাকুরীর বাজারে অভিজ্ঞতার চাহিদা আমাদের বাংলাদেশীদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের  সিস্টেম বড়ই অদ্ভুত। অনেক সময় বলতে শুনা যায় এমন কোন কাজ নাই যেটা বাংলাদেশীরা পারেনা। সত্যিইতো।

চাকুরীর বাজারে অভিজ্ঞতা চাওয়া নতুন কিছু নয়। উন্নত দেশগুলাতেও এমন অভিজ্ঞতা চায়। আপনি আমি নিজেও কোন একটা প্রতিষ্ঠান খুললে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক খুজবো। কারণ আমাদের ধারণা প্রথমেই আমার কোম্পানি ভালো ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের দ্বারা পরিচালিত হলে সেটা আমার কোম্পানির জন্য মঙ্গলজনক।
এই চাহিদাই তৈরি করেছে নতুন একটা সমস্যার। আপনারা খেয়াল করবেন দেশে আনপেইড ইন্টার্নের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে আবার টাকা দিয়েও ইন্টার্ন করে। প্রশ্ন এটার কারণ কী? কোন নতুন কিছু শেখার জন্য? নতুন স্কিল ডেপেলপমেন্টের জন্য?

না। সিভিতে ট্রেনিং অভিজ্ঞতা এড করার জন্য, ইন্টারভিউতে যাতে বলতে পারে কেউ যে আমার এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। যদি প্রমান চায় তাহলে একটা সার্টিফিকেট দেখালেই হয়। আর এ সার্টিফিকেটের আসলেই কোন ভ্যালু আছে। ক্যানভা ট্যাম্পলেটে ডিজাইন করে কিছু স্বাক্ষর নিয়ে যাস্ট একটা ডিজাইনের কাগজ।
প্রতিষ্ঠানে এজন্য যোগ্য লোক পাওয়া যায়না।

মনে করেন আমি একটা প্রতিষ্ঠান খুললাম। প্রতিষ্ঠান মানে কী ফেসবুক একটা পেজ খুলে একটা নাম দিলাম। আমি ওই পেজে বিভিন্ন কন্টেন্ট দিবো। সাধারণত যেসব সাধারণ স্কিল একজন মানুষের মাঝে থাকা আবশ্যক সিম্পল সেগুলা আমার মধ্যে আছে। যেমন ক্যানভা ফটো এডিটিং, কন্টেন্ট লিখা ক্যাপকাট, ফটোশপের মতো কিছু টুলসের ব্যবহার। আমি আমার পেজে কয়েকদিন কাজ করে বোস্ট করে কিছু ফলোয়ার আনার পর তারপর পোস্ট দিলাম যে ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি শাখায় ৬ জন ইন্টার্ন নিয়োগ দেওয়া হবে।
সবাই অভিজ্ঞতার জন্য এপ্লাই করলো। আমিও ওদের নিয়ে কাজ করলাম। এতে আদৌ কী ওদের কোন লাভ হলো? নাকি টাইম ওয়েস্ট?
বর্তমানে স্টুডেন্টের যেগুলায় আগ্রহ বেশি সেগুলা বিবেচনায় একটা ফেসবুক পেজ খুললেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে গেলো? বিভিন্ন মিডিয়া, দেশের বাইরে বৃত্তি নিয়ে যাওয়ার জন্য রিসার্চ পেপার, বিভিন্ন ডিজাইন ইত্যাদি শেখানো ও অভিজ্ঞতা দেখানোর জন্য অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু আমি একদম সিউর করে বলতে পারি এসব প্রতিষ্ঠানের এক ফেসবুক পেজ ছাড়া আর কিছুই নেই। কোন কোন প্রতিষ্ঠান বছরে ২-৩ হাজার টাকা খরচ করে একটা ওয়েবসাইট ও খুলে ফেললো।

বাংলাদেশীরা ফেসবুকে অনেক আসক্ত ফিফা যদি আমাদের ফুটবলার হামজা চৌধুরীকে নিয়ে একটা পোস্ট দেয় দেখবেন ভিউ আর রিয়েক্টের অভাব হবেনা। কিন্তু অন্য দেশের কোন নামীদামী ফুটব্লারকে নিয়ে দিলে দেখবেন ওই দেশে ফেসবুক ইউজার ও কম আর থাকলেও এত ইন্টারেস্ট নাই।
সেই দিক থেকে কেউ যদি একটা ফেসবুক পেজ খুলে একটা কন্টেন্ট আপলোড দেয় আর সেটা কোন জানার মধ্যে পড়েনা তাহলে দেখবেন কিভাবে কীভাবে ঐ পেজটা ভাইরাল। আর এ দিক এনালাইস করে আমাদের চতুর বাংলাদেশীরা ফেসবুক পেজ খুলে বসে থাকে। দেখবেন কোন একটা প্রোগ্রাম হলে জার্নালিস্টদের অভাব নাই। মাত্র কিছুদিন আগে কিছু চ্যানেলের অনেক নাম ডাক ছিলো। সবাই সম্মান করতো। বর্তমানে জার্নালিস্টদের দামই নাই। কন্টেন্ট মনিটাইজেশন ও ইনকামের আশায় এ দিক থেকে ঐদিক পাগলের মতো ছুটতে থাকে। কিন্তু কথা বললেই আর ধমক দিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেই সেটা জার্নালিজম নয় জার্নালিসমের আলাদা গুণ আছে।
প্রতিষ্ঠানগুলা দেখতে মনে হয় অনেক বড় কিন্তু খোজ নিয়ে দেখেন একজন বা দুইজন এই প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে।

এমন অসংখ্য সেক্টর আছে যেগুলার কোন প্রকৃত মূল্য নেই। প্রকৃতপক্ষে কোন যোগ্যতা সেইখান থেকে অর্জিত হয়না যার কারনে যারা চাকুরীর আশায় ছুটাছুটি করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই এগুলাতে জয়েন হওয়ার বেশিরভাগ সময়ই বরবাদ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান দেখবেন যেগুলা শুধু শুধু এরকম মার্কেটিং করে লোক নেয়না আনপেইড ইন্টার্ন ওদের লাগেনা ওরা এমনিতেই নিজেরা নিজেদের আইডিয়া, কোয়ালিটি দিয়েই সমৃদ্ধ।

কাজেই এর সমাধান খোজা আমাদের এখন সময়ের চাওয়া। বাংলাদেশ সরকারের নানা পদক্ষেপ এই সমস্যাকে সমাধানের পথে নিয়ে যেতে পারে। যেমন সরকারের একটা টিম ওইসব প্রতিষ্ঠানকে ধরে ধরে কোয়ালিটি যাচাই করে অনুমতি দিতে পারে বা সরকার প্রত্যেকটা সেক্টরে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান খুলতে পারে। যেগুলাতে সবাই নয় যারা প্রকৃত মেধাবী প্রকৃতভাবে জ্ঞান অর্জন করতে চায় তারাই সুযোগ পাবে , ঢালাওভাবে সবাই না। আপনারা বলবেন এটাতো বৈষম্য। কিন্তু দেখেন যার পা ভালোনা তার আশা ও চেষ্ঠা থাকলেও হাটা সম্ভব না। পায়ের চিকিৎসার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করার পর সম্ভব হলেও হতে পারে নিশ্চয়তা নাই। এই চিকিৎসাটা আমার এই লেখার টপিকের অর্থে সিস্টেমের সংস্কার। কিন্তু এই চিকিৎসা বা সংস্কার দরকার তখন, যখন আমরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কোন দিক দিয়ে ঝুকিপূর্ণ থাকবোনা। ঝুকি থাকা সত্ত্বে ভালো জিনিস বাচাই না করে ভালো খারাপ সব নিলে আমাদের ঝুকি থেকেই যাবে ঝুকি এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরে ছড়াবে।

Welcome to Muhim's World!