শিক্ষা একটা জাতির উন্নয়নের প্রধান অস্ত্র। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি সবকিছুর উন্নতির চূড়ায় পৌছাতে হলে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশের শহরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামমাত্র মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার অবস্থা খুব খারাপ। সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থী বীজগনিতীয় সাধারণ সূত্রই পারেনা। যার ফলে সৃষ্টি হয় শিক্ষিত বেকার।
যার কারণে এখনো আমরা বিশ্ব লিড করা পণ্য যেমন স্মার্টফোন, এআই, বিভিন্ন গাড়ি, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, পরিবেশজাত পণ্য উৎপাদন করতে পারছিনা প্রতিযোগীতায় নামাতো দুরের কথা। আমরা বরং ব্যবহার করে দেশের অর্থ নষ্ট করতেছি।
আমার চারপাশে এমন অনেক শিক্ষার্থী দেখি ও মাঝে মাঝে মনে করি স্কুলে না গিয়ে যদি কৃষিকাজ করতো বা কারিগরি কিছু শিক্ষা নিত তাহলে আরো ভালো হতো। কিন্তু তা করে আমরা শুধুই শক্তিশালি শ্রমশক্তি তৈরি করতে পারব । অন্যকিছু নয়। তাই এই রোবোটিক জগতে বহুমূখী উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুই রোবোট পরিচালনার দিকে ঝুকা আমাদের জন্য অনেক ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ। কাজেই ঘুরেফিরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দিকে যেতে হবে যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিতে পারি। নিজেরা কিছু তৈরি করতে পারি।
মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কিছু বাস্তবিক চিত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি এর জন্য এখন আমাদের সিস্টেমটাকে পুরোই পরিবর্তন করে ফেলি তাহলে সেটা স্মভবপর হবেনা। কীভাবে পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করবেন তার একটা নমুনা নিয়ে আলোচনা করি।
আমাদের সিস্টেম এমন যে আমরা জীবনের ২০ বছরই প্রাথমিক শিক্ষার দিকে ব্যয় করি।। এইচএসসি পর্যন্ত আমরা পদার্থ, রসায়ন, জীব, গণিত সব শিখি। কেউ কেউ অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি সব শিখি। নির্দিষ্ট একটা কিছু শিখিনা, বিষয়টা কতটা হাস্যকর।
প্রত্যেক মানুষের ২০-২৮ এমন সময়টা থাকে গোল্ডেন এইজ। এই বয়সে অনেক চিন্তা মাথায় আসে অনেক কিছু নতুন ধারণার জন্ম হয়। কাজেই শিশুর জন্মের পর ১২ বছর প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর আমাদের উচিত এডভান্স শিক্ষায় চলে যাওয়া। আমরা যেমন এইচএসসির পর ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্যামিস্ট্রি ইত্যাদি আলাদা আলাদাভাবে ওইসব শাখায় বিচরনের জন্য আন্ডারগ্রাডুয়েটে এডমিশন নেই । ঠিক সেটাই আমাদের ১২ বছর থেকেই নিতে হবে। বেশি হলে ১৫ বছর তাহলে ২০ বছর বয়সে একটা সম্ভাবনার জায়গা তৈরি হবে। আমরা সম্ভাবনার জায়গা তখন তৈরি করি যখন একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন পার করে সাংসারিক ও সামাজিক রাজনৈতিক চিন্তায় প্রবেশ করে তখন।
এই সিস্টেম প্রয়োগের বাস্তবিক চিত্র কিন্তু সম্পুর্ণ ভিন্ন। যদিও সম্ভব কিন্তু এই রিস্ক কোন সরকার নেয়না। আমরা শিক্ষাখাতে ব্যয় করার চেয়ে পছন্দ করি উন্নয়ন খাতের জন্য অবকাঠামোগত খাতে বেশি ব্যয় করার। এই সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র কিন্তু আমাদের আছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছাত্রদের শিক্ষক করে ফেলাসহ নানা পদক্ষেপ নিতে পারি।
সিস্টেমটাকে এভাবে গড়ে তোলা কঠিন একটা কাজ। তাই বর্তমান কাঠামোর সুস্থতার জন্য বাস্তব কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আসুন আলোচনা করি –
১. প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাদান সঠিক হচ্ছে কী না তা তদারকির খুব খুব অভাব কাজেই তদারকি বাড়াতে হবে।
২. প্রধান সমস্যা পরীক্ষার হলে অসাধুপায় অবলম্বন করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। প্রতিষ্টানের শিক্ষকগণ নিজেদের প্রতিষ্টানের ফলাফল ভালো করার জন্য প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীদের বলে দেন শিক্ষার্থীদের কোন কোন জায়গায় বইও খুলে দেন লিখার জন্য। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু শুধু আর পড়ালেখা করেনা। আমাদের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরীক্ষানির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার খাতা ভালো রাখার চিন্তা করে। এখন একজন শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষার হলে সহায়তা পায় তাহলে তার পড়াশোনার কী দরকার? এই মূল্যায়ন পদ্ধতি বাতিল করে নূতন একটা পদ্ধতি আনতে হবে অথবা পরীক্ষার হলকে স্বচ্ছ রাখার জন্য শিক্ষকদের পরীক্ষার ডিউটিতে না দিয়ে সরকারি অন্য দপ্তরের লোকদের দিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখার জন্য কোন সহায়তা না পায়। আবার আমরা বাংলাদেশি শিক্ষকরা ওইসব ডিউটিরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে সেদিকে আমাদের নজরদারি রাখতে হএ। এতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় পাস করার জন্য হলেও পড়াশোনা করবে। বিজগণীতিয় সূত্র পড়বে।
৩. আমার উল্লিখিত প্রথম সিস্টেমটার কিছু প্রয়োগ আমাদের প্রচলিত সিস্টেমে আস্তে আস্তে প্রয়োগ করতে হবে।
আমাদের পুরো সিস্টেমটকে প্রথমোক্ত সিস্টেমের আওতায় আনতে পারলে আমরা কয়েক বছর পরে অনেক দূর এগিয়ে যাবো। কিন্তু এটা প্রয়োগ সম্ভব হলেও সহজ নায়। যার কারণে প্রচলিত পদ্ধতিকে সঠিক নার্সিং করতে হবে। যাতে শিক্ষিত হইয়েও আমরা অশিক্ষিত না হই।