Ikhlachul Muhim Milon

বাংলাদেশ একটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় কী উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশদের কখনোই উপরে উঠতে দেয়না। বাংলাদেশকে যদি দেখেন যুক্তরাষ্ট্র সহ বড় বড় রাষ্ট্র সহায়তা করতেছে তাহলে সেটাকে সহায়তা ধরে নেওয়া ঠিকনা। কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিজেদের আয়ত্তে রাখা।

কীভাবে বলি?
বাণিজ্যে লাভের অন্যতম একটা উপায় হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। দুটি দেশ পরস্পরের সাথে পণ্য বিনিময় করে। উন্নয়নশীল দেশগুলা প্রাথমিক দ্রব্য সরবরাহ করে বা বলা যায় নিম্ন দামের ও নিম্ন লাভের পণ্য রপ্তানি করে। আর উন্নত দেশগুলা সবসময় শিল্পজাত বা বেশি লাভের ও দামের পণ্যগুলা রপ্তানি করে। এতে আমি বাংলাদেশি হিসেবে ২০০০ টাকা দামের একটা শার্ট ওদের কাছে বিক্রি করে যদি ১৫০০ টাকা লাভ করি তাহলে এর বিনিময়ে আমি বাংলাদেশ ওদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন হলেও ২০০০০ টাকার একটা ইলেক্ট্রিক ডিভাইস বা ল্যাপটপ ক্রয় করে ওদের ৭০০০ থেকে ৮০০০ টাকা লাভ দিচ্ছি। তাহলে মূলত আমার কাছে প্রকৃত লাভ কী থাকলো? ৭০০০ – ১৫০০ = ৫৫০০ ঘাটতি।
প্রতি বছর বাংলাদেশ ২০০ – ৪০০ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি রেখেই আসছে।

আর বিদেশী শিল্পজাত দেশগুলা এ অবস্থায় বাংলাদেশকে উৎসাহিত করবে যে আরো পণ্য পাঠাও। বাংলাদেশ মনে করে বাহ পণ্য আরো পাঠাই উৎপাদন বাড়াই। কিন্তু তাতে আদৌ কোন লাভ হচ্ছেনা তা বুঝিনা। আমরা মনে করি উৎপাদন বাড়ছে যেহেতু ল্যাপটপ একটার জায়গায় দুইটা আমদানি করি এখন। এটা কেন করি? কারণ অনুন্নত দেশের মানুষ যখন উন্নত দেশের হাতে বিলাসজাত দ্রব্য দেখে তখন নিজেও একটু ভাব নেওয়ার ট্রাই করে। ধরাটা খায় এখানেই। এটাই আসলে আমাদের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের রোগ।

আবার মনে করেন বাংলাদেশ বিলাসজাত দ্রব্য কেনা বাদ দিলো , তখন উন্নত দেশ এত বোকা না। তারা করবে কী? বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রাথমিক দ্রব্য বা নিম্ন দামের পণ্য আমদানী করা বাদ দিবে তখন তারা নিজেরাই উৎপাদন করবে। উন্নত দেশগুলোকে ধরাটা খাওয়াতে হবে এখানে যাতে তারা এসব নিম্ন দামের ও লাভের পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। তাতে আদৌ কোন লাভ হবে না। কারণ উন্নত তারা এমনিতে হয়নি, নানা জিওপলিটিক্যাল ইস্যু সহ বিভিন্ন ট্যাকনিক দ্বারা তারা এ ঘাটতি পূরণ করে নিবে।

বিভিন্ন বিলাসজাত দ্রব্য ২ অর্থবছর আমদানী না করে এর বিকল্প বাংলাদেশের তৈরি পণ্য ব্যবহার করে একটা পরীক্ষা চালানো দরকার।২ বছর বিলাসজাত পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। অবৈধভাবে বর্ডার ক্রস করেও যাতে পণ্য না ঢুকতে পারে সেদিক দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিলাসজাত দ্রব্যের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির ফোন, ল্যাপটপ, ইলেক্ট্রিক ডিভাইস বা অন্যান্য।

বাংলাদেশ সরকার ২ বছর অন্তত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটা নিরীক্ষা চালাক না, কী হয় দেখা যাক।
তাতে আরেকটা সমস্যার সৃষ্টি হবে, খাদ্য নিরাপত্তা। এই ২ বছর এর বিনিময়ে কোন দেশ খাদ্যশস্য রপ্তানি কার্যক্রম আমাদের সাথে না চালাতে পারে। একটা বাণিজ্য যুদ্ধ লেগে যাবে।

তো হিসাব নিকাশ করে এই দুই বছর উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেকনা বাংলাদেশ।

এটা অনেক বড় একটা রিস্ক। তবে নিয়ে দেখা উচিত।

২০০৫ থেকে ২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম ঘাটতি হয়েছিলো ২০০৫ – ২০০৬ অর্থবছরে। ঘাটতি বলতে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি ব্যয়ের পার্থক্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো উদ্বৃত্ত হয়নাই। ওই সময় কেন কম হয়েছিলো তা জানা নেই।

এটা রাজনৈতিক খেলার মাঝে আসল হিসাব কী না তাও বুঝার উপায় নেই।

কথা হচ্ছে সরকার ২ বছর এ পদক্ষেপ নেকনা। জানি সমস্যা হবে। অনেক সমস্যা। আপনারা মন্তব্যে বলেন কী কী সমস্যা হবে। এগুলা সলভ করা যাবে কী না ভেবে দেখি, আলোচনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Welcome to Muhim's World!